অবকাঠামো নয়, টেকসই সক্ষমতা চায় দেশ: বাণিজ্য উপদেষ্টার হুঁশিয়ারি
বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের চমক নয়, বরং রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ টেকসইতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, “আমরা এমন সব প্রকল্প হাতে নিচ্ছি, যেগুলো আমাদের বাস্তব সামর্থ্যের বাইরে। এটা অনেকটা এমন, কেউ একটা গাড়ি কিনলো, কিন্তু চিন্তাই করলো না যে সেই গাড়ি কত কিলোমিটার যাবে। মাঝপথে এসে তেল শেষ—এখন তেলের জন্য ভিক্ষা করতে হচ্ছে আইএমএফের দরজায়।”
বুধবার (২৫ জুন) অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাংবাদিক সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত “অটোমোবাইল পলিসি ফর গ্রিন গ্রোথ অ্যান্ড কম্পেটিটিভ ইকোনমি” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, এমআরটি—সব কিছু বানানো হচ্ছে, কিন্তু এসব প্রকল্প আমাদের কতটা উপকারে আসবে তা ভাবা হচ্ছে না। বরং ভোগান্তি বাড়ছে। এক টাকার প্রকল্প ২০ টাকায় হচ্ছে, তাও অপ্রয়োজনীয়।”
তিনি জানান, “বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনে লজিস্টিক ব্যয় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অথচ এ দেশে রয়েছে ২০০টিরও বেশি নদী, যা হতে পারতো আমাদের প্রধান লজিস্টিক চ্যানেল। এসব ব্যবহারে ব্যর্থতা আমাদের অর্থনীতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে।”
অটোমোবাইল খাত নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই গাড়ি সংযোজনের নামে বিদেশ থেকে পুরো বডি এনে শুধু চারটা চাকা লাগিয়ে দিয়ে নিজেদের সফল ভাবছি। অথচ এখনো দেশীয় উৎপাদনের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
-
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ:
“পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ছাড়া লজিস্টিক ব্যয় কমানো সম্ভব নয়।” -
রিজওয়ান রাহমান, সাবেক সভাপতি, ঢাকা চেম্বার:
“দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই বোঝা যাবে, যখন ধনী লোকেরা গণপরিবহন ব্যবহার শুরু করবে।” -
আবদুল হক, সভাপতি, রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস অ্যাসোসিয়েশন:
“ছোট গাড়িতে কর কমালে রাজস্ব বাড়বে, কমবে না। এখনো নীতিগতভাবে আমরা জাপানের ওপর নির্ভরশীল।” -
মতিউর রহমান, চেয়ারম্যান, উত্তরা মোটরস:
“বর্তমান অটোমোবাইল নীতি বিনিয়োগবান্ধব নয়। এ কারণেই বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে না।”


