ছয়বারের চেষ্টায় অবশেষে সফল আরিফা : সন্তান ও সংসার সামলে বিসিএস ক্যাডার হলেন
বিসিএসে সফলতা পাওয়া যেন অনেকের কাছেই সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। শত চেষ্টা করেও অনেকের ভাগ্যে আসে না কাঙ্ক্ষিত ফল। তবে ঝড়ে পড়েননি তিনি। টানা পাঁচবার ব্যর্থ হলেও স্বপ্নের পিছু ছাড়েননি আরিফা সুলতানা। অবশেষে ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রমাণ করেছেন—দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের কাছে হার মানে সব প্রতিকূলতা।
আরিফা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ি। আট বছরের সংসার আর প্রায় পাঁচ বছরের সন্তান সামলে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তার সফলতা এখন অনেকের জন্যই প্রেরণার নাম।
এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে পেয়েছেন মা, ভাই, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে। আরিফা বলেন,
“আমার স্বামী প্রায়ই বলতেন, ‘তুমি তোমার মতো এগিয়ে যাও। আমি অপেক্ষা করছি।’ এই কথাগুলোই আমাকে বারবার সাহস দিয়েছে।”
শুধু তাই নয়, তার মায়ের পড়াশোনার অসমাপ্ত গল্প আর ভাইয়ের অনুপ্রেরণায়ই জন্ম নেয় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন। বড় ভাই তাকদীরুল গনী বর্তমানে খুলনা পাবলিক কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি জানান,
“এইচএসসি থেকেই তাকে গাইড করেছি। পরিবারের সকলে চাইত, সে যেন সম্মানজনক কিছু করে।”
৩৭তম থেকে শুরু করে ৪৪তম বিসিএস পর্যন্ত মোট ছয়বার পরীক্ষা দিয়েছেন আরিফা। এরমধ্যে তিনবার প্রিলিতে ফেল, একবার নন-ক্যাডার, আর সফলতা ধরা দেয় ষষ্ঠ চেষ্টায়।
প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন,
“সিলেবাস ও বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে টপিক ধরে বই শেষ করেছি। নিজেই নিজেকে মডেল টেস্টে যাচাই করেছি। দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করে বারবার পড়েছি।”
প্রস্তুতির সময় তিনি একদমই ছিলেন না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সংসারের দায়িত্ব নিয়েও নিয়মিত পড়াশোনা করেছেন।
আরিফা বিশ্বাস করেন, বিসিএস যাত্রা দীর্ঘমেয়াদি, তাই মানসিক স্থিরতা ও স্বচ্ছলতা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
“জীবন থেকে অজুহাত না খুঁজে, নিজের হাতে অজুহাত সরাতে হয়। কিছুটা স্বচ্ছলতা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, মানসিক শক্তি দেয়,”—বললেন তিনি।
পেশাগত দায়িত্বকে গুরুত্ব দিয়ে আরিফা বলেন,
“সততাই সেবা। এই জায়গা থেকেই কাজ করতে চাই ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে। তারা যেন নতুন করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।”


