গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নিয়ে ফের আলোচনা, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় বিতর্কের ঝড়

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ নিয়ে ফের আলোচনা, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় বিতর্কের ঝড়
নিউজ ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৫

গাজা উপত্যকা থেকে লাখো ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়ে আবারও আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ২১ মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফররত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। হোয়াইট হাউসের ব্লু রুমে অনুষ্ঠিত নৈশভোজে ফিলিস্তিনি জনগণকে ‘উন্নত ভবিষ্যৎ’ দেওয়ার নামে তাদের মাতৃভূমি ছেড়ে যেতে উৎসাহিত করার কথা বলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “যারা গাজা ছাড়তে চায়, তারা যেন চলে যেতে পারে। এটি একটি কারাগার নয়, বরং উন্মুক্ত জায়গা হওয়া উচিত।”

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সূত্র ধরেই স্পষ্ট হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু দেশ খুঁজছে, যারা ফিলিস্তিনিদের গ্রহণ করতে পারে। ট্রাম্প এর আগেও গাজাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভেরা’ বানানোর প্রস্তাব দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তার দাবি ছিল, ‘আশপাশের দেশ’গুলো নাকি এই পরিকল্পনায় ‘সহযোগিতা’ করছে। তবে প্রতিবেশী কোনো দেশই এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুতি মেনে নেয়নি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে মঙ্গলবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪১ জন নিহত হয়েছেন। হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে খাদ্য, পানি ও ওষুধের অভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না এই সহিংসতা থেকে। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজা ও পশ্চিম তীরে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কেবল গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ হাজারের বেশি শিশু ও শিক্ষার্থী। এছাড়া শত শত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাতে জানা গেছে, উত্তর গাজায় হামাসের হামলায় তাদের পাঁচ সেনা নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বাইত হানুন এলাকায় রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, এটিই সাম্প্রতিক সময়ে হামাসের সবচেয়ে বড় আঘাত।

হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরায়েল আমাদের জনগণের স্বপ্ন ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাব। এই যুদ্ধ শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে ইসরায়েল পরাজিত।”

আলজাজিরার রিপোর্টে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা প্রকৃতপক্ষে একটি জাতিগত নির্মূলের রূপ নিচ্ছে। জর্ডানের আম্মান থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি হামদা সালহুত বলেন, “ইসরায়েল বহুদিন ধরেই গোপনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এখন তা প্রকাশ্য আলোচনায় এসেছে।”