যুক্তরাজ্যে ‘বাংলাদেশি ধনীদের সম্পত্তি খেলা’: আন্তর্জাতিক তদন্তে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে ‘বাংলাদেশি ধনীদের সম্পত্তি খেলা’: আন্তর্জাতিক তদন্তে নতুন বিতর্ক
নিউজ ডেস্ক
২০ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল সম্পত্তি কেনাবেচা ও হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের খোঁজে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলের নাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে চালানো তদন্তে দেখা গেছে, লন্ডন ও আশপাশের অভিজাত এলাকায় গত এক বছরে অন্তত ২০টি সম্পত্তি সরানো হয়েছে, যেগুলোর মালিকানা প্রাক্তন সরকারের প্রভাবশালী কয়েকটি পরিবারের হাতে ছিল।

লন্ডনের নাইটসব্রিজ, মেফেয়ার, সারে’র ভার্জিনিয়া ওয়াটার — এ সব এলাকায় সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে। অভিযোগ রয়েছে, এসব লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে গোপনে সম্পদ সরিয়ে নিরাপদে রাখা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মিলিত টাস্কফোর্স ইতোমধ্যেই ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিকে (NCA) আরও কিছু সম্পত্তি জব্দের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “সম্পদ দ্রুত হস্তান্তর বন্ধ না করলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে এবং রাষ্ট্রের অর্থ ফেরত আনা সম্ভব নাও হতে পারে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, লন্ডনের কিছু আইনি প্রতিষ্ঠান ও অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম এসব লেনদেন সহজ করতে সাহায্য করেছে। যেমন, জাসওয়াল জনস্টন এবং মেরালি বিডল নামের দুইটি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে।

যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেছে, তারা যথাযথ KYC (Know Your Customer) ও AML (Anti-Money Laundering) প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর সম্প্রতি নাইটসব্রিজের একটি চারতলা টাউনহাউজ হস্তান্তর করেছেন ব্রিটিশ কোম্পানি ব্রুকভিউ হাইটস লিমিটেডের কাছে—বিনামূল্যে। পরে সেটি বিক্রি হয় প্রায় ৭৩.৫ লাখ পাউন্ডে এমন এক প্রতিষ্ঠানের কাছে যার পরিচালকদের সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। এই “শেল কোম্পানি” ব্যবহার করে মালিকানা লুকানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তে বাংলাদেশে ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর পর পালিয়ে যাওয়া প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিদেশে অর্থ পাচারের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন চাইছে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

লন্ডনের এমপি জো পাওয়েল বলেন, “এ ধরনের সম্পদ তহবিল যদি এখনই জব্দ না করা হয়, তাহলে এগুলো চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।”