ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ছাড়বে না ইরান, ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ছাড়বে না ইরান, ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নিউজ ডেস্ক
২২ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ছাড়বে না ইরান। এ অবস্থানে অনড় থাকায় ইরানকে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার প্রশ্নই ওঠে না। একে তিনি ইরানের “জাতীয় গর্ব” এবং “বিজ্ঞানীদের সাফল্য” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“এই মুহূর্তে সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ, কারণ হামলায় প্রযুক্তিগতভাবে ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি একেবারে পরিত্যাগ করা আমাদের জন্য অসম্ভব। আমাদের প্রযুক্তি বাইরের নয় যে বোমা ফেলে ধ্বংস করা যাবে।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো পরমাণু চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার অবশ্যই স্বীকৃত হতে হবে।

গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ভূগর্ভস্থ ফোর্দোসহ ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। হামলার পেছনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সামরিক উত্তেজনাই কারণ বলে জানায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

আরাগচি স্বীকার করেছেন, “স্থাপনাগুলোতে গভীর ক্ষতি হয়েছে,” তবে বলেন, “পারমাণবিক জ্ঞান ধ্বংস হয়নি।”

হামলার কয়েক সপ্তাহ পর, ইরানের এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ তিনি লিখেছেন:

“আমি যা বলেছিলাম, তা-ই করেছি। আর প্রয়োজনে আবারও করবো!”

এছাড়া তিনি সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল, হামলা ইরানের কর্মসূচিকে মাত্র “কয়েক মাসের জন্য” থামাতে পেরেছে। তিনি প্রতিবেদনের সাংবাদিককে বরখাস্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলে ইরান প্রস্তুত।
তিনি বলেন,

“আমরা বিশ্বাসযোগ্য যে কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে রাজি, যাতে প্রমাণ হয়— আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।”

হামলায় ক্ষতির পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখবে বলে জানান আরাগচি। তিনি বলেন,

“আমাদের হাতে এখনো যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারি।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই টানাপোড়েন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।