কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় দমবন্ধ আমেরিকা: নিউইয়র্কে বায়ু সতর্কতা জারি

কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় দমবন্ধ আমেরিকা: নিউইয়র্কে বায়ু সতর্কতা জারি
নিউজ ডেস্ক
২৭ জুলাই ২০২৫

কানাডার ভয়াবহ দাবানল এবার সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দাবানলের ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে নিউইয়র্কসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। বায়ুর মান আশঙ্কাজনকভাবে খারাপ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কানাডায় চলমান দাবানলের প্রভাবে নিউইয়র্কের আকাশ ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। রাজ্যের লং আইল্যান্ড, হাডসন ভ্যালি, মেট্রোপলিটন নিউইয়র্ক এবং অ্যাডিরন্ড্যাকসসহ একাধিক অঞ্চলের বাতাসকে “সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিউইয়র্কে শনিবার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ১৩৫ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বাতাসের এমন মান শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পরিবেশ সংস্থা (EPA)।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চলতি বছর এর আগেও জুলাই মাসে শিকাগোসহ বেশ কয়েকটি শহরে এমন সতর্কতা জারি হয়েছিল।

কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের সাস্কাচেওয়ান, ম্যানিটোবা ও ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় দাবানলের ভয়াবহতা ইতোমধ্যেই চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৫৫০টিরও বেশি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কানাডার পরিবেশ সংস্থা জানিয়েছে, দাবানলের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবহন ব্যবস্থা।

দাবানলের ধোঁয়া এখন কেবল পরিবেশ নয়, রাজনৈতিক বিতর্কেও স্থান করে নিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের ছয়জন সদস্য কানাডার রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে “গ্রীষ্মকালীন জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে” এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক অবকাশ উপভোগে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কানাডায় উষ্ণতা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে। আর্কটিক অঞ্চলে এই উষ্ণতা বৃদ্ধির হার তিন গুণ। দীর্ঘ খরা, অস্বাভাবিক উষ্ণতা ও কম আর্দ্রতার কারণে দাবানলের প্রকোপ বেড়েছে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. মারিয়া হেনরিকস বলেন, “আগুন এখন শুধু স্থানীয় বিষয় নয়—এটি এক আন্তঃসীমান্ত সংকট। দাবানলের ধোঁয়া প্রমাণ করছে, এক দেশের সমস্যা এখন অনেক দেশের সমস্যা হয়ে উঠছে।”