হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আ.লীগের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ

জাতীয়
হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আ.লীগের ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ
নিউজ ডেস্ক
১ আগস্ট ২০২৫

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সরকার উৎখাতের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার কর্মীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা, মেজর সাদেকুল হক সাদেককে এই ষড়যন্ত্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। সেনাসদরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, “মেজর সাদেকের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তার দোষ প্রমাণিত হলে সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে রাজধানীর ভাটারা, মিরপুর, কাটাবন ও পূর্বাচল এলাকায় তথাকথিত কর্মশালার আড়ালে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। ভাটারা থানাধীন একটি কনভেনশন সেন্টারে ৮ জুলাই আয়োজিত প্রশিক্ষণে ৪০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্দিষ্ট টোকেন দেওয়া হয়েছিল এবং অনুষ্ঠানস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয় বলে জানা গেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে অন্তত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বরগুনার যুবলীগ নেতা সোহেল রানা, গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন শম্পা এবং মেহেরপুরের যুবলীগ আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এদের সবার বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ষড়যন্ত্রে মেজর সাদেকের পাশাপাশি তার স্ত্রী, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমাইয়া জাফরিনও যুক্ত ছিলেন। তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময় রাজধানীতে প্রশিক্ষণ পরিচালনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, কলকাতায় অবস্থান করা কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতা সার্বিকভাবে এই নাশকতামূলক পরিকল্পনা পরিচালনা করছেন বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই পরিকল্পনায় কৌশলগত সহযোগিতা করেছে ভারতের কিছু গোয়েন্দা চক্র বলেও দাবি করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। আমরা প্রতিটি তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করছি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সব ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং অর্থায়নকারীদের ওপরও নজরদারি চলছে।