দারিদ্র্যের তথ্য প্রকাশে লুকোচুরি, সংখ্যা নাকি বাস্তবতা?

জাতীয়
দারিদ্র্যের তথ্য প্রকাশে লুকোচুরি, সংখ্যা নাকি বাস্তবতা?
নিউজ ডেস্ক
১ আগস্ট ২০২৫

বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে এবার স্বচ্ছতার ঘাটতি ও পরিসংখ্যানে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)—তবে তা কোনো সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই, কেবল একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী। অথচ ২০২১ সালে একই বিষয়ে চূড়ান্ত করা আরেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৬ শতাংশের বেশি।

২০২১ সালের প্রতিবেদনটি কখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এবার সেটিকেই পুনর্গঠন করে সরকার দারিদ্র্য হ্রাসের বার্তা দিতে চেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলছেন—এই হার কি সত্যিকার অর্থে কমেছে, নাকি পরিসংখ্যানের কৌশলে কমিয়ে দেখানো হয়েছে?

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এক অর্থনীতিবিদের ভাষায়, “পুরোনো জরিপ দিয়ে বর্তমানের দারিদ্র্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। এতে করে আসল বাস্তবতা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ০–১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে রয়েছে। গ্রামের তুলনায় শহরে দারিদ্র্যের হার কম হলেও, উপকূল ও পার্বত্য জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ—সেখানে এই হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

‘খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২’ অনুসারে, দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে জিইডির সর্বশেষ তথ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য ২৪ শতাংশ। এই দুই সরকারি পরিসংখ্যানের পার্থক্য নিয়েই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কেবল আয় দিয়ে পরিমাপ করা যায় না—বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, রান্নার জ্বালানি, এমনকি ইন্টারনেট অ্যাক্সেস-সহ নানা দিক দিয়েই এর প্রভাব পড়ে।

প্রতিবেদন প্রকাশে যে স্বচ্ছতার অভাব ছিল, সেটি নিয়েও সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ডেটা কোনো আলোচনা বা সাংবাদিকদের প্রশ্নের সুযোগ ছাড়াই প্রকাশ করায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়েও।