পাচার হওয়া ৮,৭৫০ কোটি টাকা উদ্ধারে ‘জাতীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার মিশন’ গঠন

জাতীয়
পাচার হওয়া ৮,৭৫০ কোটি টাকা উদ্ধারে ‘জাতীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার মিশন’ গঠন
নিউজ ডেস্ক
৫ আগস্ট ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার মিশন’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। লক্ষ্য—বিগত এক যুগে পাচার হওয়া প্রায় ৮,৭৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

সরকারি সূত্র জানায়, এ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন সাবেক কমিশনার এবং একজন আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ। এ মিশনের অধীনে এরই মধ্যে সাতটি দেশে পাচার হওয়া সম্পদ শনাক্ত করা হয়েছে।

পাচারের অভিযোগ রয়েছে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ আমলাদের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে তিনটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং এক সাবেক মন্ত্রীর পরিবার, যারা গত সরকারে ‘ঘনিষ্ঠ অংশীদার’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্তে জানা যায়:

  1. দুবাই ও কানাডায় প্রায় ৩৮টি সম্পত্তি

  2. লন্ডনে ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা

  3. সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ২২টি অফশোর কোম্পানির সন্ধান

  4. যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল গাড়ি ও হেলিকপ্টার রেজিস্ট্রেশন

বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, এনবিআর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ টাস্কফোর্স একযোগে কাজ করছে। এরই মধ্যে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনটি আইনি সংস্থার মাধ্যমে প্রাথমিক জব্দ আদেশ জারি হয়েছে।

ড. রিফাত মাহমুদ, অর্থ পাচার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বলেন,

“এটি শুধু অর্থ ফেরত আনার প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ন্যায়ের লড়াই।”

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অর্থ পাচার হয়েছে মূলত ৫টি পন্থায়:

  1. ভুয়া ইনভয়েস ও কৃত্রিম আমদানি-রপ্তানি

  2. ওভার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা সরানো

  3. ঘুষ ও কমিশন বিদেশে ট্রান্সফার

  4. দুই স্তরের কোম্পানির মাধ্যমে ট্রান্সফার প্রাইসিং

  5. নগদ পাচার ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র বলেন,

“অর্থ পাচারকারীদের বিদেশে শান্তিতে থাকতে দেব না। দেশের জনগণের সম্পদ তারা চুরি করেছে, আর আমরা সে সম্পদ ফেরত এনে প্রতিটি টাকাকে কাজে লাগাবো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে।”

  1. সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ৫টি দেশে ল ফার্ম নিয়োগ

  2. ডিসেম্বর নাগাদ আদালতে জমা হবে প্রথম রিকভারি কেস

  3. জাতিসংঘের স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভ (STAR)-এ বাংলাদেশ যুক্ত হচ্ছে

  4. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ফিন্যান্সিয়াল ট্রান্সপারেন্সি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন,

“যদি বাংলাদেশ এই সম্পদ ফেরত আনতে সক্ষম হয়, তাহলে তা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বৈপ্লবিক বিজয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা অব্যাহত থাকলে এ পথ সফল হবে।”

এই মুহূর্তে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থপাচার তদন্ত চলছে। শত শত কোটি টাকার সম্পদ যারা বছরের পর বছর ধরে বিদেশে জমা করেছিল, তাদের আর আরাম নেই। প্রশ্ন এখন একটাই: আমরা কি হারানো সম্পদ ফিরিয়ে আনতে পারবো? নাকি আবারও ধামাচাপা?