জাবিতে গণ-অভ্যুত্থানে হামলায় জড়িত ৬৪ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, ৭৩ জনের সনদ বাতিল

অন্যান্য
জাবিতে গণ-অভ্যুত্থানে হামলায় জড়িত ৬৪ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, ৭৩ জনের সনদ বাতিল
নিউজ ডেস্ক
৫ আগস্ট ২০২৫

গত বছরের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর সংগঠিত হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাপক ও নজিরবিহীন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৬৪ জন বর্তমান শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার এবং ৭৩ জন সাবেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাসনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাতভর চলা সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জড়িত হিসেবে ২২৯ জনের নাম উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। এর মধ্যে ১৩০ জন বর্তমান এবং ৯৯ জন সাবেক শিক্ষার্থী।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বহিষ্কৃত ও সনদ বাতিলের বিস্তারিত:

  1. আজীবন বহিষ্কার: ৬৪ জন

  2. ২ বছরের জন্য বহিষ্কার: ৩৭ জন

  3. ১ বছরের জন্য: ৮ জন

  4. ৬ মাসের জন্য: ১ জন

  5. সনদ বাতিল: ৭৩ জন সাবেক শিক্ষার্থী

  6. সনদ স্থগিত (২ বছর): ৬ জন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে এই শিক্ষার্থীদের হামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিমালার আওতায় শাস্তির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বেশিরভাগই একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সহিংসতার সময় বহিরাগত সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কেও প্রতিবেদন তুলে ধরে। প্রশাসন জানিয়েছে, বহিরাগতদের কার্যক্রম ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবহির্ভূত’ হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) পাঠানো হবে।

তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ২০ জন বর্তমান এবং ২০ জন সাবেক শিক্ষার্থীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে উপাচার্য বলেন, “তদন্ত কমিটি যথাযথভাবে উত্তর দেবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”