ক্ষমতা হারিয়ে পুনরায় সংগঠনের চেষ্টা, সংকটে আওয়ামী লীগ

জাতীয়
ক্ষমতা হারিয়ে পুনরায় সংগঠনের চেষ্টা, সংকটে আওয়ামী লীগ
নিউজ ডেস্ক
৭ আগস্ট ২০২৫

১৫ বছরের শাসন শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি সরকারের পতনের জন্য ‘দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে’ দায়ী করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে গণবিচ্ছিন্নতা, দমননীতির প্রতিক্রিয়া এবং নেতৃত্বে অনুশোচনার ঘাটতি।

ক্ষমতাচ্যুতির এক বছর পরও দলটি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেনি। দলের অনেক শীর্ষ নেতা দেশত্যাগ করেছেন, কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়। যারা দেশে রয়েছেন, তারাও এখনো আত্মগোপনে। এতে করে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দলীয় নিয়ন্ত্রণ এখনও শেখ হাসিনার হাতেই রয়েছে। ভারত থেকে তিনি ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করছেন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দলটি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। তাদের দাবি, সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে ব্যর্থ হবে এবং সেটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে— এই পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেবল সরকারের ব্যর্থতা দিয়ে আওয়ামী লীগের সংকট মোচন সম্ভব নয়। বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অতীতের দমননীতির জন্য অনুশোচনা প্রকাশ দলটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল নেতৃত্বে ছিল ছাত্র ও তরুণরা। আওয়ামী লীগ এই আন্দোলন দমনে যে কঠোরতা দেখায়, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি এবং ইসলামি সংগঠনগুলো একযোগে ক্ষমতাচ্যুতি ঘটানোর পর রাজনৈতিক ভারসাম্য দ্রুত বদলে যায়।

বর্তমানে ছাত্রনেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের অংশগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই। নির্বাচনী কমিশন ইতিমধ্যে দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে এবং নৌকা প্রতীক বাতিল করেছে।

নেতৃত্ব ও কৌশলে দুর্বলতা, তৃণমূল পর্যায়ে মনোবলের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক সমর্থন হারানো—এই সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তারা কি শুধুই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে জনমত ফেরাতে পারবে, নাকি সময়ের দাবি অনুযায়ী আত্মসমালোচনার পথ বেছে নেবে—তা নির্ধারণ করবে দলটির পরবর্তী রাজনৈতিক পরিণতি।

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে