গণ-অভ্যুত্থানকে হত্যা করা হচ্ছে— মন্তব্য এনসিপি নেত্রীর
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকেই দমন করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা হাতে ধরে গণ-অভ্যুত্থানকে টিপে মেরে ফেলছি।”
সম্প্রতি এক আলোচনাসভায় অংশ নিয়ে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। শারমিন বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার কিছু চেষ্টা থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
“তাদের লক্ষ্য যেন কেবল একটা নির্বাচন দিয়ে দায় সেরে নেওয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের কোনো উদ্যোগ তাদের মাঝে দেখা যায় না,” — বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সংস্কার না হওয়া এ সরকারের ব্যর্থতার বড় একটি দিক। “পুলিশ সংস্কার কমিশনকে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার মধ্যেই আনা হয়নি, যা বড় ধরনের অবিচার,” মন্তব্য করেন এনসিপি নেত্রী।
সামান্তা শারমিনের দাবি, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনেই পুলিশের ‘অবৈধ ভূমিকা’ ছিল দৃশ্যমান। “আমরা কি পুলিশ বাহিনীকে প্রশ্ন করতে পারব না? এই বাহিনী কি এখন কোনো নির্দলীয় সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে, নাকি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করে?”
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিই কোনো কাজে বাধা অনুভব করে, তাহলে তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জানাক। কিন্তু তারা সবকিছু নিয়ে নেগোশিয়েট করছে। এই মনোভাব থেকে বের হতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, জুলুম এবং নির্যাতনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং এগুলোর বিচার না হলে একই ঘটনাগুলো চক্রাকারে চলতেই থাকবে।
“বিচার ছাড়া এই চক্র থামানো যাবে না। মৌলিক সংস্কার ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন,” — বলেন সামান্তা শারমিন।


