চাকরি সামনেও করতে হবে, এক মাঘে শীত যায় না: হাসিনার হুমকি
একটি বিতর্কিত অডিওক্লিপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকেও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে প্রসিকিউশন।
মামলার মূল কেন্দ্রে রয়েছে একটি অডিওক্লিপ, যেখানে কথিতভাবে শেখ হাসিনা ও বুলবুলের মধ্যে একটি রাজনৈতিক আলাপ রেকর্ড হয়েছে। এতে শেখ হাসিনা একটি জায়গায় বলেন, “আমার তো সারা দেশে ২২৭টি মার্ডার কেস। ধরো অন্তত ২২৭ জনকে মারার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।”
পূর্ণাঙ্গ রায়ে শেখ হাসিনা ও বুলবুলের কথোপকথন (ফাঁস হওয়া অডিও) তুলে ধরা হয়েছে। এর এক জায়গায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওইসব তালিকা করো আর অফিসারদের বলো আমরা তালিকা পাঠাচ্ছি নেত্রীর কাছে। উনি চাইছেন, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’ শেখ হাসিনার এই কথার পর বুলবুল বলেন, ‘জ্বি নেত্রী, জ্বি আসসালামু আলাইকুম।’ এরপর শেখ হাসিনা বলেন, ‘চাকরি সামনেও করতে হবে, এটা ভুলে যাইয়ো না যেন। এক মাঘে শীত যায় না।’এই অংশ (কথোপকথন) সম্পর্কে রায়ে বলা হয়েছে, ‘সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ না করে কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন হাসিনা। তবে ধারণা করা যায়, শেখ হাসিনা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের (প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা, ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য) ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছেন।’
ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয়, অডিওটি কৃত্রিম নয় এবং সেটিতে শেখ হাসিনা ও বুলবুলের কণ্ঠস্বর রয়েছে।
আদালত রায়ে মন্তব্য করে যে, অডিওতে প্রকাশিত বক্তব্য আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি পরোক্ষ হুমকি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বুলবুলের ভূমিকা নিয়েও আদালত পর্যবেক্ষণ দেয় যে, তিনি কথোপকথনটি দলের অভ্যন্তরে ও সাংবাদিকদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সিআইডি’র ফরেনসিক ল্যাবে অডিওর বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা নিজস্ব তদন্তও পরিচালনা করেন। তদন্তে উঠে আসে, একটি অনলাইনভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত দলীয় ভার্চুয়াল সভা হতো, যেখানে এই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও আসে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সাজা শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হবে, যখন অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হবেন অথবা আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগপন্থি কোনো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে, বিশেষত বর্তমান সময়ে যখন দলটি কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।


