বাংলা বলার ‘অপরাধে’ বাংলাদেশে পুশ ইন, শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন মালদহের আমির শেখ

বাংলা বলার ‘অপরাধে’ বাংলাদেশে পুশ ইন, শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেন মালদহের আমির শেখ
নিউজ ডেস্ক
১৪ আগস্ট ২০২৫

রাজস্থানে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার এক যুবক আমির শেখ অভিযোগ করেছেন, তাকে “বাংলা ভাষায় কথা বলার” কারণে পুলিশ আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় এবং পরে বিএসএফ বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। দুই মাস পর তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।

২২ বছর বয়সী আমির শেখের ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তিনি জানান, তিনি ভারতের নাগরিক এবং মালদহ জেলার কালিয়াচক-১ ব্লকের বাসিন্দা। কিন্তু রাজস্থানের পুলিশ তাকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে এবং বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।

এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আমিরের পরিবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বিষয়টি বিএসএফ মহাপরিচালকের কাছে তুলে ধরেন এবং লিখিত আবেদন করেন আমিরকে ফিরিয়ে আনার জন্য।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এরপর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। গত ১৩ আগস্ট বিজিবি-বিএসএফ যৌথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বসিরহাট থানায় তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

আমির শেখের আইনজীবী সৈকত ঠাকুরতা বলেন, “আমিরের কাছে বৈধ আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাকে বেআইনিভাবে আটক এবং বিদেশে পাঠানো হয়।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং আগামী ২৭ আগস্ট পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাংলা ভাষাভাষীদের “বাংলাদেশি” আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে তিনি বারবার “জাতিগত বৈষম্য ও ভাষাগত নিপীড়ন” হিসেবে তুলে ধরেছেন। হরিয়ানা, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের বিরুদ্ধে এমন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে ফের প্রশ্ন উঠছে—ভাষাগত ভিত্তিতে কোনো নাগরিককে বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও “বিদেশি” হিসেবে চিহ্নিত করা কতটা সাংবিধানিক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিক অধিকার রক্ষায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আরও সমন্বয় এবং নজরদারি প্রয়োজন।