যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক, বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি পণ্য বিশেষ করে পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিক, হোম টেক্সটাইল, আসবাব ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আমদানিতে আগ্রহ বাড়ছে মার্কিন ক্রেতাদের।
রপ্তানিকারকদের দাবি, শুল্ক সুবিধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য তুলনামূলকভাবে সস্তা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু মার্কিন আমদানিকারক ভারত ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছেন। ব্যবসা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে।
ড্যানিশ ফুডস-এর সিনিয়র ম্যানেজার আদনান ইবনে নূর জানান, “আমরা ইতোমধ্যে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি আগ্রহ পাচ্ছি। ভারতের উচ্চ শুল্ক আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।”
এসিআই প্রিমিও প্লাস্টিক মাসে ১০ লাখ ডলার রপ্তানির টার্গেট নির্ধারণ করেছে। চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৭ কোটি ডলারের বাজার ধরতে কাজ করছে এসেন্সর ফুটওয়্যার, যারা বলছে—চীন থেকেও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে সরছে।
এ সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারও সক্রিয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, “আমরা নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় বিজনেস প্রমোশন সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছি। পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সুপারিশ করা হয়েছে।”
পাশাপাশি, হস্ত ও পাটপণ্য, হোম ডেকর ও হস্তশিল্পেও নতুন মার্কিন বাজার ধরার লক্ষ্য নিয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই প্রয়োজন দ্রুত নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা—যাতে ভারত হারানো মার্কেট ধরে ফেলতে পারে বাংলাদেশ।


