অন্তরালে জোট নিয়ে দৌড়ঝাঁপ
৩০ আসন নিয়ে এনসিপির দর-কষাকষি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে জোর লড়াই শুরু হয়েছে। বড় দলগুলো যেমন সরাসরি নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি ছোট দলগুলোও নানা শর্ত আর রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-আধিপত্য বিস্তারে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বড় দলগুলোর নেতৃত্বে জোট গঠনের আলোচনা চলছে, অন্যদিকে কিছু ছোট দল এখনো ‘নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে রাজনৈতিক দর-কষাকষির পথ তৈরি করছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১২ দল, সমমনা জোট ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি দল নির্বাচনী জোটে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, এনসিপি, গণ-অধিকার পরিষদসহ বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা করছে বিএনপি।
তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য গড়ার ব্যাপারে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নির্বাচনেও জামায়াতকে জোটে রাখা হবে না।
জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও হেফাজতের অংশবিশেষের সঙ্গে একটি পৃথক ইসলামী জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এখনো ভোটের মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে সমঝোতা না হলে তাদের নির্বাচনে না যাওয়ার হুমকি কৌশল মাত্র।
বিএনপি জোটসঙ্গীদের জন্য ৬০টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ। কিন্তু এনসিপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ কিছু দল ৩০টির মতো আসন চেয়ে বসেছে। আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
এদিকে জামায়াতও বিএনপির কাছে ৫০টির মতো আসনের দাবি জানিয়েছে, যা না মেটালে তারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে কিংবা সরে দাঁড়ানোর নাটক করতে পারে।
জাতীয় পার্টিও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গোপন রাজনৈতিক সমর্থন থাকায় তারা এবার আগের চেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে রংপুর ও ফরিদপুর অঞ্চলে আওয়ামী লীগ-বিরোধী ভোট পেতে জাতীয় পার্টিকে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে পারে ক্ষমতাসীন দল।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও বিকল্প হিসেবে জনগণের কাছে যেতে প্রস্তুত।”
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বলেন, “যেসব দল নির্বাচন বর্জনের কথা বলছে, তারা শেষ পর্যন্ত ভোটেই অংশ নেবে। এখন কেবল দর-কষাকষির সময় চলছে।” একই সুরে নুরুল হক নুর বলেন, “সবাই বুঝে গেছে ভোট ছাড়া পথ নেই। তবে বিএনপিকে সবার সঙ্গে সম্মানজনক সমঝোতায় যেতে হবে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, “একটি বৃহত্তর ঐক্যের ভিত্তিতে নির্বাচনমুখী কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। আসন বণ্টনের আলোচনাও সামনে এগোবে।” তবে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের প্রশ্নে তিনি নিরপেক্ষ মন্তব্য করেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, “নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাগুলো আসলে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র সম্ভব নয়—সব দলই তা জানে।”
সূত্র: কালের কন্ঠ


