বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গণধোলাই, ‘সন্দেহভাজন’ রিকশাচালক আজিজুর নিয়ে বিভ্রান্তি

জাতীয়
বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গণধোলাই, ‘সন্দেহভাজন’ রিকশাচালক আজিজুর নিয়ে বিভ্রান্তি
নিউজ ডেস্ক
১৭ আগস্ট ২০২৫

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন এক সাধারণ রিকশাচালক। কিন্তু ঘটনাটি মোড় নেয় অপ্রত্যাশিত একদিকে—ভিড়ের মাঝে তিনি গণধোলাইয়ের শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, আটক ব্যক্তি একজন হত্যা মামলার আসামি। তবে এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরিষ্কার জানিয়েছে, এ তথ্য ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

১৫ আগস্ট সকালে মো. আজিজুর রহমান নামের ওই রিকশাচালক নিজের রিকশায় করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হাজির হন। তার হাতে ছিল একটি ফুলের তোড়া, যাতে লেখা ছিল:

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাধারণ রিকশাওয়ালা হিসাবে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে শ্রদ্ধা জানাতে নিজের সৎ উপার্জনের টাকা দিয়ে ফুল কিনে এসেছি। আমি কোন দল করি না। শুধু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি।”

এই বার্তায় কেউ আবেগাপ্লুত হলেও, অনেকেই সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন। প্রশ্ন ওঠে, একটি সাধারণ রিকশাচালকের পক্ষে এমন বার্তা ও আয়োজন কতটা স্বাভাবিক?

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুল নিয়ে আসার কিছু সময় পর আজিজুরকে ঘিরে ধরেন বিভিন্ন দলের উপস্থিত নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ তোলেন—তার আগমনে ‘অসুস্থ উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। তার রিকশা উল্টে ফেলে রাখা হয় রাস্তার পাশে।

পরে ধানমন্ডি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আজিজুরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায়, আজিজুর একজন ‘হত্যা মামলার আসামি’। অনেকেই ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন।

তবে ডিএমপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য। আজিজুরকে ধানমন্ডি থানার একটি পুরনো মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে ১৬ আগস্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজিজুরকে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে—এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মামলাটি পেনাল কোডের একটি নিয়মিত মামলা।”

আজিজুর রহমানের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর থানার ঘোড়াশাল ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামে। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আসিনি। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, তাই নিজের টাকায় ফুল কিনে এসেছি।”