অনলাইনে অপপ্রচার মোকাবিলায় বিএনপির প্রস্তুতি কী?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুল্লামেলা মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে দলটির পক্ষ থেকে। বিএনপি নেতা দাবি করছেন, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘঠিত হলে তা দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে Artificial Intelligence (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে জানান,
“চট্টগ্রামে ভাইরাল হওয়া এক চিকিৎসকের ভিডিও ওই চিকিৎসকের ‘বিন্দাস’ আচরণকে বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যমূলক কল্পিত প্রচারণা। বাস্তবে তার সঙ্গে আমাদের দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে এক পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।”
রিজভী আরও উল্লেখ করেন,
“সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, রিজভীর দাবি অনুযায়ী, বিএনপি মিডিয়া সেল ইতিমধ্যে এসব ফেক ভিডিও শনাক্ত করে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে কাজ করছে। তবে, সরকারি সহযোগিতায় এসব অপপ্রচার আবারও পুনরায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানান, তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্বভাবে সক্রিয় হয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চাইছে।
উত্তর ঢাকা ছাত্রদল নেতা আব্দুল হালিম বলেন,
“আমরা মিডিয়ার অপপ্রচার মোকাবেলায় ক্ষমতা সংহত করার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে শক্তিশালী গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি সেলের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে জবাব দেবো।”
তারা সাইবার সেলে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সতর্ক থেকে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে—যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।
দলের ঢাকা মহানগর অংগুলারা একটি কোয়র্ডিনেটেড প্রতারণা হামলার বিরুদ্ধে রাস্তা ও অনলাইনে সমন্বিত প্রতিবাদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ঢাকা উত্তর মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর বলেন,
“দুর্বলরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাতে পারে, কিন্তু তা টিকে থাকে না।”
একদিকে দেশব্যাপী এসএমএস, ওয়াক্স অ্যাপ, ইউটিউব‐ভিত্তিক ভিডিও মাধ্যমে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে; অন্যদিকে বিএনপির তরুণ কর্মীরা তাদের সত্যবাদী কাহিনী সংরক্ষণ ও প্রচার করার চেষ্টা করছেন।
এই তথ্যবিমূঢ় করার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


