ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিক, তা চান না ট্রাম্প

ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিক, তা চান না ট্রাম্প
নিউজ ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৫

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইউক্রেনকে বড় ছাড় দিতে হবে— এমনটাই মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের কোনও সুযোগ নেই এবং ক্রাইমিয়া আর ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও একেবারেই নেই। খবর বিবিসির।

সোমবার (১৮ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,

“জেলেনস্কি চাইলে এখনই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে পারেন। ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশাধিকার নেই এবং ২০১২ সালে যেভাবে ক্রাইমিয়া রাশিয়া নিয়েছিল, সেটি ফেরত পাওয়ারও আর কোনো সুযোগ নেই।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য স্পষ্টতই ইউক্রেনের বর্তমান অবস্থান ও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিপরীতে। একইসঙ্গে এটি প্রেসিডেন্ট পুতিনের আগ্রাসনের প্রতি একধরনের নীরব সমর্থন বলেও অনেকে মনে করছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ট্রাম্পের এ ধরনের অবস্থান প্রকাশ্যে আসার পেছনে তার সদ্য সমাপ্ত আলাস্কা বৈঠক নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। ওই বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব থেকে সরে এসে “স্থায়ী শান্তিচুক্তির” ওপর জোর দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন রাশিয়ার কূটনৈতিক কৌশলেরই প্রতিফলন।

ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “ট্রাম্প কি বাস্তবতা বলছেন, না কি পুতিনের ভাষায় কথা বলছেন?” কেউ কেউ বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক অবস্থানের সরে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

অবশ্য হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ইউরোপের একাধিক নেতার অংশগ্রহণে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন,

“আগামীকাল বড় দিন! ইউরোপীয় নেতাদের এমন সম্মেলন আগে কখনো হোয়াইট হাউসে হয়নি। আমি তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।”

সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে ইউরোপের বহু রাষ্ট্রপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোয় ধারণা করা হচ্ছে, হোয়াইট হাউসে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে একটি জরুরি সঙ্কটসভা হতে পারে। সেখানে পশ্চিমা জোটের পরবর্তী করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।