১৫ আগস্টে শোবিজ তারকাদের শোকবার্তা: পরিকল্পিত প্রচারণা নাকি আবেগের বহিঃপ্রকাশ?

জাতীয়
১৫ আগস্টে শোবিজ তারকাদের শোকবার্তা: পরিকল্পিত প্রচারণা নাকি আবেগের বহিঃপ্রকাশ?
নিউজ ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৫

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত শোকবার্তাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক বিস্ফোরক অভিযোগে দাবি করেছেন, এই পোস্টগুলো নিছক আবেগ নয় বরং ছিল “সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারণা”।

১৭ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে জুলকারনাইন সায়ের বলেন,

“এটি ছিল একটি ওয়েল-কোঅর্ডিনেটেড সাইকোলজিক্যাল ক্যাম্পেইন, যার মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনাবহুল আন্দোলন ও সহিংসতার প্রসঙ্গ থেকে জনগণের মনোযোগ সরানো হয়েছে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তার অভিযোগ, এই প্রচারণায় শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের অবদানকে কেন্দ্র করে ‘বর্ণাঢ্য ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়, তবে ১৯৭২-৭৫ সময়কালের বিতর্কিত অধ্যায়—যেমন রক্ষীবাহিনীর দমননীতি, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, এবং একদলীয় শাসনের প্রসঙ্গ সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

সায়ের দাবি করেন, এই প্রচারণা শুরু হয় মধ্যরাতে, এবং প্রথম দফায় অংশ নেন অভিনেত্রী তারিন, তমালিকা কর্মকার, সাজু খাদেম, অরুণা বিশ্বাস ও শামীমা তুষ্টি। পরে চলচ্চিত্রের একজন শীর্ষ তারকার (পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত শাকিব খানের দিকে) ‘সেন্ট্রাল ভ্যালিডেশন’ হিসেবে পোস্টটি সামনে আনা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, এক মার্কিনপ্রবাসী আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ম্যানেজ’ করেছেন, যিনি শোবিজ জগতেও প্রভাবশালী। তার তত্ত্বাবধানেই তথাকথিত ‘অরাজনৈতিক’ সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে।

জুলকারনাইন সায়ের বলেন, কিছু জাতীয় গণমাধ্যমও এই প্রচারণার অংশ হয়, যেখানে কয়েকজন অপেক্ষাকৃত অচেনা শিল্পীকে অপ্রত্যাশিতভাবে সংবাদ কাভারেজ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে, একটি প্রভাবশালী বিজ্ঞাপনদাতা—যিনি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ব্যবসা জগতে সক্রিয়—এই প্রচারণার পেছনে অর্থ ও প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও সায়ের অভিযোগ করেন।

এই প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

“সুনির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে শতাধিক পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টগুলোর লাইক, শেয়ার, কমেন্ট সবই সুসংগঠিত ও টার্গেটেড।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই প্রচারণা হয়তো চলমান রাজনৈতিক অভিযুক্তদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ফেরানোর একটি প্রাথমিক ধাপ, যার পরবর্তী ধাপে এদের সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন,

“আওয়ামী লীগের এমন সাংগঠনিক প্রচারণার বিপরীতে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির প্রচার কার্যক্রম একেবারেই অগোছালো। তারা নিজেদের ভেতরের সমালোচনায় বেশি সময় ব্যয় করছে।”

সায়ের স্ট্যাটাসের শেষে সতর্ক করে বলেন,

“এই কৌশল যদি অপ্রতিরোধিত থাকে, তবে রাজনৈতিকভাবে অভিযুক্তদের পুনর্বাসনের পথ তৈরি হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য হুমকি।”

তবে তার বক্তব্যে কিছু অংশ যেমন “ফ্যাসিস্ট দোসর”, “বিক্রি হয়ে যাওয়া”, “জাতির শত্রু” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করায় সামাজিকমাধ্যমে মতবিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে সমালোচনার গণ্ডি ছাড়িয়ে ঘৃণাপূর্ণ আক্রমণ বলেও অভিহিত করেছেন।