বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ‘প্যালেস্টাইন-২’ হামলা: ইয়েমেনের অভিযানের দাবি খণ্ডন করলো ইসরায়েল

বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ‘প্যালেস্টাইন-২’ হামলা: ইয়েমেনের অভিযানের দাবি খণ্ডন করলো ইসরায়েল
নিউজ ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৫

ইয়েমেনের হুথি সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ‘প্যালেস্টাইন-২’ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফল হামলা চালিয়েছে। হামলার কারণে হাজারো ফ্লাইট বাতিল এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি ‘ভুয়া প্রচারণা’ এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট), ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, তেলআবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘প্যালেস্টাইন-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি একে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।

জেনারেল সারি বলেন, “লক্ষ্য ছিল দখলদারদের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো। আমাদের এই হামলা ছিল নিপীড়িত গাজাবাসীর রক্তপাতের প্রতিক্রিয়ায় এবং অবরোধের বিরুদ্ধে একটি বার্তা।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

হুথি বাহিনী দাবি করে, হামলার পরপরই বেন গুরিয়নে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয় এবং ইসরায়েলি নাগরিকদের একটি বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে ছুটে যায়।

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবিকে “অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর” এবং “তথ্যসন্ত্রাস” বলে আখ্যা দেয়। ইসরায়েলের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানবন্দরে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত বা ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেনি। তেলআবিবে দিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. রাহুল কান্দেল বলেন, “হুথি গোষ্ঠীর এই ধরনের বিবৃতি কেবল সামরিক বার্তা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধের একটি অংশ—যেখানে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও গণমাধ্যমে আধিপত্য তৈরির কৌশল ব্যবহার করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, এই ধরণের ঘোষণার উদ্দেশ্য গাজার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ফিরিয়ে আনা এবং মুসলিম বিশ্বের নীরবতার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা।

এই দাবি এমন সময় এলো যখন ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেন থেকে চালানো যেকোনো হামলার পেছনে ইরানের সরাসরি বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।

হামলার দাবিকে ঘিরে এখনও স্বতন্ত্র কোনো আন্তর্জাতিক উৎস থেকে নিশ্চিতকরণ মেলেনি। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের জর্জরিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উত্তেজনা যুক্ত করেছে, যা আগামী দিনগুলোতে ইসরায়েল-গাজা-ইয়েমেন ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।