বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা ৯৩৭ কোটি টাকা

জাতীয়
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা ৯৩৭ কোটি টাকা
নিউজ ডেস্ক
১৮ আগস্ট ২০২৫

৫৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে ৯৩৭ কোটি টাকার অনিরীক্ষিত মুনাফা, যা বিগত সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবিএম রওশন কবীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে যাত্রীদের নিরবিচ্ছিন্ন আস্থা, দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, এবং আধুনিক ও সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার পাশাপাশি লাভজনকতা অর্জন — দুইই অর্জন করেছে বিমান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রাজস্ব ও মুনাফার রেকর্ড

  1. আয়: ১১,৬৩১.৩৭ কোটি টাকা

  2. মুনাফা: ৯৩৭ কোটি টাকা (অনিরীক্ষিত)

  3. ২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফা ছিল ৪৪০ কোটি টাকা, যা এবার দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

  4. ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বিমানের রাজস্ব ১০,০০০ কোটি টাকা ছাড়ায়।

১৯৭২ সালে ১.৯০ কোটি টাকা আয়ে যাত্রা শুরু করা বিমান আজ একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান। করপোরেশন থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের (২০০৭) পর বিমান ধাপে ধাপে ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। গত ১৮ বছরে মোট পুঞ্জীভূত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ কোটি টাকা।

বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ২১টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ১৯টি নিজস্ব। উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে ৬টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, যা জ্বালানি সাশ্রয়ী ও দীর্ঘপথে আরামদায়ক।
বিমান এখন নিজস্ব সক্ষমতায় সম্পন্ন করছে বহরের রক্ষণাবেক্ষণ, যার ফলে খরচ কমেছে ও সেবার মান বেড়েছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান:

  1. যাত্রী পরিবহন: ৩.৪ মিলিয়ন

  2. কার্গো পরিবহন: ৪৩,৯১৮ টন

  3. কেবিন ফ্যাক্টর: ৮২% (গত বছরের চেয়ে বেশি)

  4. জানুয়ারি ২০২৫-এ সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রি

নতুন রুট চালু, ডিজিটাল রূপান্তর, কার্গো সেবা সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবায় উন্নয়ন — এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই বিমান এগিয়ে যেতে চায় দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স হওয়ার লক্ষ্যে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি সরকারের অধীনে গৃহীত দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কার্যকর সম্পদ বণ্টন এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এই সাফল্যের অন্যতম নিয়ামক।

এই অর্জন শুধু বিমানের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার এই পুনরুত্থান দেশীয় এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।