জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য জোরালো, জামায়াতও সমন্বয়ে
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গঠনের উদ্যোগ আরও বেগবান হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মিত্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এবার সরাসরি ইসলামি জোটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।
নেতারা বলছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে আদর্শিক বিভেদ ভুলে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে একত্রিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ইতোমধ্যে জোট গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। দলগুলোর মধ্যে একাধিক দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সব দল নিজ নিজ সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দীন বলেন, “৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য সময়ের দাবি। নতুন প্রেক্ষাপটে মতভেদ বড় কোনো ইস্যু নয়। ঐক্যের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনূস আহমেদ জানান, “জামায়াতসহ অন্যান্য দল ঐক্যের ব্যাপারে আগ্রহী। আসন বণ্টনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামি নেতাদের মতে, বিএনপির সঙ্গে আদর্শিক দূরত্ব এবং অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এবার ইসলামপন্থি দলগুলো একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম গড়ার দিকেই এগোচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, “জামায়াতকে বাদ দিয়ে ঐক্য অর্থহীন হবে। ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত হলে এর সুফল পাবে অন্যরা। তাই ভোটারদের এক রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।”
ঐক্য প্রক্রিয়ায় আহলে হাদিসসহ বিভিন্ন মতাদর্শের দলও রয়েছে। তবে ইসলামি নেতারা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত বিভেদ নয়, বরং বাস্তব রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থই এখন প্রধান বিবেচ্য।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সময়মতো একটি সুসংহত প্ল্যাটফর্ম গঠন সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, নাম বা ফরম্যাট যাই হোক—একসঙ্গেই এগোব।”
বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতা হলে দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ইসলামপন্থি জোটের উদ্ভব ঘটতে পারে। যা আগামী নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং ঐতিহ্যবাহী জোটসমূহের সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।


