গাজা দখলে ইসরায়েলি অভিযান জোরালো, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৮১
ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এবং কঠোর খাদ্য অবরোধের কারণে গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার (২০ আগস্ট) ভোর থেকে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, একই দিনে ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অনাহারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১১২।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজা সিটি দখলের প্রথম ধাপের অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে শহরের কেন্দ্রের দিকে ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সেনারা। ঘোষণায় বলা হয়েছে, পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে আরও ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গাজা সিটিতে এই অভিযান আরও বহু মানুষকে বাস্তুচ্যুত করবে, যারা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার ঘর হারিয়েছেন।
বুধবার দক্ষিণ গাজার একটি তাবু শিবিরে বিমান হামলায় তিনজন নিহত হন। এছাড়া খাদ্যসাহায্য নেওয়ার সময় ইসরায়েলি গুলিতে সাবেক জাতীয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় মোহাম্মদ শালান নিহত হন।
খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সামনে হামলায় শুধু একদিনেই নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সাংবাদিক হানি মাহমুদের মতে, “এটি গাজা উপত্যকাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁকা করে তোলার অংশ।”
ইসরায়েলের অভিযানের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন দেশটির নাগরিকরাও। গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের স্বজনরা বলছেন, সরকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উপেক্ষা করে নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
হামাস বলেছে, গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা ইসরায়েলের নৃশংসতা ও দখলদার মানসিকতা প্রকাশ করে।
‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আলহেনদাওয়ি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তা কেবল একটি যুদ্ধ নয়— এটি একটি প্রজন্ম ধ্বংসের নামান্তর। শিশুরা সবচেয়ে বড় শিকার।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে মোট ৬২,১২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।


