সেলিব্রিটিদের শোক প্রকাশ ‘স্বার্থনির্ভর’: রিজভীর মন্তব্যে বিতর্ক
দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের একটি অংশ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে নিজেদের ‘বস্তুগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম’ হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত প্রামাণ্যচিত্র ‘৩৬-জুলাই’-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আজকাল কিছু অভিনয়শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিক ১৫ আগস্ট উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকের পোস্ট দেন, তবে সেটি হৃদয়ের ভাষা নয়, বরং ফ্যাসিবাদী শাসকদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ।”
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, “যারা অভিনয় করেন, কবিতা লেখেন, তারা তো সমাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। কিন্তু জুলাইয়ে যখন মানুষ রাস্তায় রক্ত দিল, ‘পানি লাগবে পানি’ বলে কেউ একজন গুলিবিদ্ধ বন্ধুর কাছে ছুটে গেল, সেই দৃশ্য কি তাদের স্পর্শ করেনি?”
তিনি আরও বলেন, “তাদের অনেকেই শোক প্রকাশ করছেন কিন্তু মূলত সুবিধা অর্জনের চেষ্টায় আছেন। কেউ কেউ ফ্ল্যাট, প্লট আর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিল্পকে বিসর্জন দিয়েছেন।”
প্রামাণ্যচিত্র ‘৩৬-জুলাই’ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “গত ১৬ বছরে গুম-খুনের শিকার মানুষের কষ্ট ও তরুণদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হলো এই জুলাই আন্দোলন। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে একত্রিত দ্রোহের প্রতীক।”
রিজভী অভিযোগ করেন, “একটি বিশেষ বই—যা বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে লেখা—তার লেখক হিসেবে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাদের সেই লেখালেখির বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা, প্লট ও বিদেশ ভ্রমণ সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।”
সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ কোটি টাকা। জনগণের এই অর্থ শেখ হাসিনার দলীয় ও পারিবারিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এসব বঞ্চনার জবাব হিসেবেই জন্ম নিয়েছে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান।”


