ট্রাম্পের শুল্কের চাপে চীনের দিকে মোদি! ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কি ভাঙনের পথে?

ট্রাম্পের শুল্কের চাপে চীনের দিকে মোদি! ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কি ভাঙনের পথে?

ট্রাম্প-মোদি-শি জিনপিং

নিউজ ডেস্ক
২৮ আগস্ট ২০২৫

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জেরে ভারতকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা দিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর আগে যে ২৫ শতাংশ শুল্ক ছিল, তা মিলিয়ে ভারতের ওপর এখন মোট ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) থেকে এই শুল্ক কার্যকর হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, শুল্ক আরোপের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিরল চীন সফরে যাচ্ছেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম তিনি চীন সফর করছেন।

মোদি এবার যোগ দিচ্ছেন বেইজিংয়ে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান ও মধ্য এশিয়ার নেতারা। মোদির এই সফরকে দুই এশীয় শক্তি—ভারত ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিকরা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চীন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, এই সম্মেলন হবে এসসিওর সবচেয়ে বড় বৈঠক, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির চাপেই মোদি শিবির এখন চীন ও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। বেঙ্গালুরুর তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক মনোজ কেউলরামানি বলেন, “ভারত ও চীন উভয়ই বুঝতে পারছে যে, এই মুহূর্তে জাতীয় স্বার্থেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করা জরুরি।”

সিএনএনের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এই কূটনৈতিক ব্যবধান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিকূল হতে পারে। কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র ছিল।

ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের চীনবিষয়ক পরিচালক ইউন সুন বলেন, “এই সংঘাতের সূচনা ট্রাম্প নিজেই করেছেন। এখন ভারত আর জোর দিয়ে বলতে পারছে না যে ওয়াশিংটন তাদের পাশে আছে।”

ট্রাম্পের শুল্ক সরাসরি আঘাত হেনেছে ভারতের রপ্তানি খাতে। বিশেষ করে দেশটির পোশাক, গহনা, জুতা, খেলাধুলার সামগ্রী, আসবাব এবং রাসায়নিক শিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। এই শুল্কে ভারতের কয়েক হাজার ছোট রপ্তানিকারক ব্যবসা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের ইকুইটি বাজার বড় ধসের মুখ দেখেছে এবং রুপির মান তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ আমদানি শুল্কভুক্ত দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে আমূল পরিবর্তনের আভাস স্পষ্ট। ট্রাম্পের শুল্ক চাপ ভারতকে চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক নতুন কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের দিনগুলোয় ভারত কীভাবে তার কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণ করে, সেটিই বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।