ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ‘অবৈধ’: মার্কিন ফেডারেল আদালতের রায়ে বড় ধাক্কা

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ‘অবৈধ’: মার্কিন ফেডারেল আদালতের রায়ে বড় ধাক্কা
নিউজ ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আন্তর্জাতিক শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধভাবে আরোপ করা হয়েছিল।

৭-৪ ভোটে গৃহীত রায়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (International Emergency Economic Powers Act – IEEPA) প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের সরাসরি ক্ষমতা দেয় না। এটি কংগ্রেসের সাংবিধানিক এখতিয়ার। ফলে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আইনের পরিপন্থী।

এই রায় কার্যকর হবে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সামনে এখনও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্যভাবে মামলাটি দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে গড়াবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “যদি এই রায় বহাল থাকে, তবে এটি আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই শুল্ক ছিল আমাদের অর্থনৈতিক রক্ষাকবচ। যদি তুলে নেওয়া হয়, তাহলে তা দেশের জন্য আর্থিক বিপর্যয়ের কারণ হবে।”

ট্রাম্প প্রশাসন চীন, মেক্সিকো, কানাডাসহ অনেক দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই শুল্ক ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ জন্য অপরিহার্য এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আইইইপিএ আইনের কোথাও ‘শুল্ক’ বা এর কোনো প্রতিশব্দ ব্যবহৃত হয়নি এবং এই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেয় না।

১২৭ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছে, কর ও শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। অতীতে যখন প্রেসিডেন্টদের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তখন তা নির্দিষ্ট আইনি ভাষায়, যেমন ‘Tariff’ বা ‘Duty’—এই শব্দগুলো ব্যবহার করে করা হয়েছে।

এর আগে মে মাসে নিউইয়র্কভিত্তিক কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এই শুল্কগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। তবে আপিল চলমান থাকায় তা কার্যকর হয়নি। এবার আপিল আদালতও একই রায় বহাল রাখলো, যা ট্রাম্পের নীতিকে আরও দুর্বল করে দিল।

তবে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত শুল্ক এই রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ এগুলো ভিন্ন আইনগত ভিত্তিতে আরোপ করা হয়েছিল।

রায় ঘোষণার আগেই হোয়াইট হাউজের আইনজীবীরা সতর্ক করেছিলেন, এসব শুল্ক বাতিল হলে তা ১৯২৯ সালের মহামন্দার মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। এক চিঠিতে তারা লিখেছিলেন, “এই ক্ষমতা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।”