রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক
চীন সফর শেষে দেশে ফিরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক দুটির মধ্যে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এবং পরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, বৈঠকগুলোতে সাম্প্রতিক চীন সফরের সারাংশ উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান। এছাড়া দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সীমান্ত অঞ্চলে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনে কৌশলগত সহযোগিতা ও সামরিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা জানিয়ে সেনাপ্রধান বৈঠকে বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে চীনের সক্রিয় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে বলে আশাবাদী তিনি।
চীনে অবস্থানকালে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। ২২ আগস্ট PLA সদরদপ্তরে পৌঁছালে তাঁকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। এরপর PLA স্থলবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিশনার জেনারেল চেন হুই’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন তিনি।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক, সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়, প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়নে সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বাংলাদেশের সামরিক উৎপাদন ও গবেষণা খাতে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়েও কথা বলেন দুইপক্ষ।
২৩ আগস্ট তিনি চীনের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘নরিনকো গ্রুপ’-এর প্রেসিডেন্ট চেন ডেফাংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বেইজিংয়ে PLA’র আর্মার্ড ফোর্স একাডেমির ক্যাম্পাস, সামরিক সরঞ্জাম গবেষণাগার এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা ঘুরে দেখেন।
এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সামরিক কূটনীতি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের এই আলোচনা আগামী দিনে প্রতিরক্ষা নীতিমালায় নতুন দিক নির্দেশনা আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


