পদত্যাগ করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা

পদত্যাগ করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা
নিউজ ডেস্ক
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজ দলের ভেতর ক্রমবর্ধমান বিভাজন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।

এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি আবারও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের খবর প্রথম জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, কৃষিনীতির সংস্কার, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক—সব মিলিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক চাপের মধ্যে ছিলেন ইশিবা। গত জুলাইয়ে উচ্চকক্ষ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) বড় ধরনের পরাজয়ের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশেষ করে দলের ডানপন্থি অংশ একাধিকবার ইশিবার নেতৃত্বে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং দল পুনর্গঠনের দাবি তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শিগেরু ইশিবা একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন। সংসদের উচ্চ ও নিম্ন উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এলডিপি জোট, যা দীর্ঘ সময়ের শক্তিশালী দলটির জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

দলের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে নেতৃত্বের দুর্বলতা ও নীতিগত বিভ্রান্তির বিষয়গুলো। দল পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুপারিশের পর ইশিবার ওপর চাপ বেড়েই চলছিল।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের শেষ দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন ইশিবা। গত সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত হয় একটি বিনিয়োগ চুক্তি, যার আওতায় জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর বিনিময়ে জাপানি অটোমোবাইল শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ছাড় পাবে।

তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নের আগেই পদত্যাগ করতে হলো তাকে, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি অপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।

ইশিবার পদত্যাগের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এলডিপির মধ্যে থেকেই একজন সিনিয়র নেতা দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলের মধ্যে বিদ্যমান বিভক্তি প্রক্রিয়াটি জটিল করে তুলতে পারে।