রাকসুতে শিবিরের প্যানেলে সনাতন ধর্মের সুজন চন্দ্র
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচনা-সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বলেন, “আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে আমি গর্বিত। এখানে কেবল শিবির নয়, একটি সম্মিলিত ও নীতিনিষ্ঠ শিক্ষার্থী দল কাজ করছে।”
প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই সুজনের নাম ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই একে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহনশীল রাজনীতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ধর্ম, দল বা মতের ঊর্ধ্বে উঠে যদি আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করি, তবেই প্রকৃত নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় ও ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে অগ্রাধিকার দেবো।”
শিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে এই প্রথমবারের মতো তিনজন নারী ও একজন সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মনে করলেও কেউ কেউ বলছেন, এটি শিবিরের ভাবমূর্তি পাল্টাতে চেষ্টার প্রতিফলন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি সাহসী এবং কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এটি একদিকে যেমন ইতিবাচক বার্তা দেয়, অন্যদিকে ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের দলে টানার প্রয়াসও হতে পারে।
সুজন চন্দ্রের মতো একজন ভিন্নধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ইসলামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার এই উদ্যোগ রাকসু নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু রাকসু নয়, দেশের ছাত্ররাজনীতিতেও সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের বার্তা দিতে পারে।


