ঢাবি ভিসিকে ‘জামায়াতি প্রশাসন’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের প্রতিবাদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে চলমান এক বৈঠকে ছাত্রদল নেতারা হঠাৎ উপস্থিত হয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদের কাছে শিবির-সম্পৃক্ত বহিরাগতদের ঘিরে প্রশ্ন তুলেন।
ছাত্রদলের অভিযোগ, নির্বাচনের আগের দিন থেকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় ‘জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী’ হিসেবে পরিচিত কিছু বহিরাগত অবস্থান করছে। তারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে ‘জামায়াতপন্থী প্রশাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় ও কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এই অভিযোগ করেন।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, তারা বারবার প্রশাসনকে বহিরাগতদের বিষয়ে সতর্ক করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন,
“আপনি যদি আজই ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমরা আপনাকে আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশাসক হিসেবে গ্রহণ করবো না। আপনার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।”
পরিস্থিতি শান্ত করতে উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষাই আমার প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচন ঘিরে নানা ছাত্রসংগঠন রাজনৈতিক সমীকরণে নেমেছে। একপক্ষ শিবিরের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা বলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডাকসু নির্বাচনের আগে এমন উত্তেজনা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বহিরাগত প্রবেশ ও প্রভাব রোধে বাড়তি নজরদারি চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।”


