ডাকসু-জাকসু নির্বাচন ছিল পূর্বনির্ধারিত প্রহসন—অভিযোগ পাপিয়ার
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া দাবি করেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত এবং ‘১/১১’-এর ধারাবাহিকতায় পরিচালিত একটি দখলদারি প্রক্রিয়া।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আড্ডা বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।
পথসভায় বক্তৃতাকালে পাপিয়া বলেন:
“ডাকসু-জাকসু নির্বাচনে কে কত ভোট পাবে, কে কোন পদে বসবে—সব আগেই নির্ধারিত ছিল। এটি ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতোই একটি পূর্বনির্ধারিত নীলনকশা। শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক চর্চার কোনো স্থান নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভোটাধিকার হরণের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়, অথচ গত ১৫ বছর দেশের শিক্ষাঙ্গনে একমাত্র ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ছিল না।
বিএনপির এই নেত্রী বলেন:
“ছাত্রশিবির এখন গোপনে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় সুবিধা নিচ্ছে। তারা একসাথে দেশ দখলের রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে। সত্যিকারের গণতন্ত্রের চর্চা নেই, বরং শিক্ষাঙ্গনে প্রতিহিংসা আর দখলদারিত্ব চলছে।”
পাপিয়া আরও বলেন, সরকার গত দেড় দশকে রক্তদানের মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেই সময় যারা শিক্ষাঙ্গনে জীবন দিয়েছে, তাদের আত্মত্যাগ আজ অবহেলিত।
“এই প্রহসনের নির্বাচন গণতন্ত্রকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে, আমরা দেখছি একনায়কতান্ত্রিক দখলের সংস্কৃতি।”
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে যে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।


