জাকসুর ভিপি স্বতন্ত্রের জিতু, জিএস শিবিরের মাজহার
তিন দশকেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের মাজহারুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—কারও মধ্যে সন্তোষ, আবার কারও মধ্যে হতাশা।
বহুল কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচন ঘিরে শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। পরবর্তীতে হাতে গণনার কারণে ফল প্রকাশে সময় লেগে যায় প্রায় ৬০ ঘণ্টা।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রদলসহ চারটি প্যানেল ও পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেন। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য এবং চারজন বিএনপিপন্থি শিক্ষক পদত্যাগ করেন। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডবিহীন ও প্রশাসননির্ভর”।
নির্বাচনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ প্রমাণ করেছে, নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং ছাত্ররাজনীতিতে পুনরায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি দিন দিন বাড়ছে।
ভিপি পদে জয়ী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন—
“আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে আসিনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও অধিকারের কথা বলেছি, তাই হয়তো তারা আমায় নির্বাচিত করেছেন।”
জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন—
“জাকসুতে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও ছাত্রস্বার্থ রক্ষাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
অনেকে মনে করছেন, ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয় ও জিএস পদে সমন্বিত জোটের উত্থান জাকসুর ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরো বৈচিত্র্যপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বলেন—
“নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্ররা ফের নেতৃত্ব পাচ্ছে, এটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ। তবে নির্বাচন ঘিরে বয়কট, পদত্যাগ ও অভিযোগ—এসব না থাকলেই ভালো হতো।”
ছাত্র রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন ১/১১ পরবর্তী মডেলের মতো নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ ছিল বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে একই সঙ্গে এটাও বলছেন, নেতৃত্ব চর্চার একটা প্ল্যাটফর্ম অন্তত ফিরে এসেছে।


