ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা সৌদি-ফ্রান্সের

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা সৌদি-ফ্রান্সের
নিউজ ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফিলিস্তিনকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার জাতিসংঘে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরব ও ফ্রান্স একযোগে ঘোষণা দিয়েছে— ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে নতুন কোনো বসতি স্থাপন বা আগ্রাসন হলে তা হবে ‘রেড লাইন’ বা কড়া হুঁশিয়ারি লঙ্ঘন।

‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানই একমাত্র টেকসই পথ’, এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত বৈঠকে সৌদি আরব, ফ্রান্স ছাড়াও ফিলিস্তিনের স্বপক্ষে অবস্থান নেয় বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, সান মারিনো ও অ্যান্ডোরা।

এর আগে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি বড় কূটনৈতিক মোড়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বৈঠক-পরবর্তী যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব ও ফ্রান্স জানায়, ফিলিস্তিনে যুদ্ধ-পরবর্তী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল যদি ‘রেড লাইন’ লঙ্ঘন করে, তবে এর জন্য তাকে গুরুতর কূটনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
তারা বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতের শান্তি চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলবে।”

দুই দেশ গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে একীভূত করার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ঘোষণা দেয়, অস্থায়ী আন্তর্জাতিক মিশন পাঠাতে তারা প্রস্তুত।

তারা আরও জানায়, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিতে চায় এবং এক বছরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মাহমুদ আব্বাস, সেটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই স্বীকৃতিকে ‘অসময়োপযোগী’ এবং ‘চরমপন্থাকে পুরস্কৃত করার’ শামিল বলে অভিহিত করেছে।
তাদের মতে, এখনই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ‘হামাসের জন্য প্রণোদনা’ হতে পারে এবং অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতি চেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের এই ঘোষণার পর, ইসরায়েল আরও কূটনৈতিক চাপে পড়বে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান থেকে দূরত্ব তৈরি হতে পারে রিয়াদ ও প্যারিসের।