লাদাখকে রাজ্যের দাবিতে উত্তাল আন্দোলন, পুলিশের গুলিতে নিহত ৪

লাদাখকে রাজ্যের দাবিতে উত্তাল আন্দোলন, পুলিশের গুলিতে নিহত ৪
নিউজ ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতের লাদাখে রাজ্যের মর্যাদার দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে আন্দোলন। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত চারজন আন্দোলনকারী নিহত ও অনেক আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাদাখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি—লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনতে হবে।

বিক্ষোভকারীরা এদিন বিজেপির স্থানীয় কার্যালয় ও পুলিশ ভ্যান ভাঙচুর করে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ টিয়ারশেল ও গুলিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহিংসতায় একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং লেহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক যুবক বলেন,

“আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজ্যের মর্যাদা চাচ্ছিলাম, কিন্তু আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা নিপীড়ন।”

ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন আগামী ৬ অক্টোবর লাদাখের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে লেহ এপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স দাবি জানায়, লাদাখের মানুষকে ভূমি, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের নিরাপত্তা দিতে হবে।

লাদাখের খ্যাতিমান পরিবেশ কর্মী সোনম ওয়াংচুক গত দুই সপ্তাহ ধরে অনশন করছেন। তিনি বলেন,

“এই আন্দোলন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আমরা ষষ্ঠ তফসিল চাই—শুধু উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়।”

২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ধারা ৩৭০ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীর ভেঙে লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে। প্রথমদিকে লাদাখবাসীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও দ্রুতই প্রশাসনিক শূন্যতা, ভূমির অধিকারহীনতা ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ শুরু হয়।

এরই প্রেক্ষিতে লেহ ও কারগিল—দুই ভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়ে লেহ এপেক্স বডি ও কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স গঠন করে যৌথভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মার্চে লাদাখি প্রতিনিধিরা দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিন্তু বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন,

“মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানানো ভুল ছিল, তবুও তিনি রাজ্য মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।”

লাদাখের পরিস্থিতি এখন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে জনগণের জোরালো দাবি, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাব—এই পরিস্থিতিতে ৬ অক্টোবরের আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।