গাজায় একদিনে ১৭০ স্থানে ইসরায়েলি বোমা হামলা, নিহত আরও ৮৫
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থল বাহিনী গাজা উপত্যকায় ১৭০টি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। যুদ্ধবিমান ও স্থল বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, গাজা সিটি ও উত্তরের এলাকায় তিনটি ডিভিজনের সৈন্য আগ্রাসন শুরু করেছে। তাদের দাবি, বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে তারা হত্যা করেছে এবং একটি অস্ত্র গুদাম ধ্বংস করেছে। তবে এই দাবি প্রমাণ করতে এখনও কোনো স্বায়ত্তশাসিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার ফলে অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়।
নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পের আল-আহলি স্টেডিয়ামে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন নাগরিকও আক্রান্ত হয়েছেন — সেখানে হঠাৎ আঘাতে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ নারী ও ২ শিশু রয়েছেন।
শরণার্থী ও স্থানীয়রা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নারী ও শিশুরা ভিড়ের অবস্থায় পাওয়া গেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তারা যখন গভীর রাতে ঘুমাচ্ছিল, তখন হামলা শুরু হয়।
গাজার হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে এখন পর্যন্ত তারা সত্তরাধিক (৭০+) মৃতদেহ পেয়েছে; আহতদের সংখ্যা আরও বেশি।
ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, খণ্ডিত রাস্তাঘাট, ও জরুরি পরিষেবা বন্ধ — পরিস্থিতি মানবিক সঙ্কটে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ওষুধ ও খাবারের ঘাটতি গুরুতরভাবে বাড়ছে। অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন এবং পানীয় জলের অভাবে বাসিন্দারা দারুণ ঝুঁকির সামনে দাঁড়াচ্ছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, তাদের সম্পূর্ণ লক্ষ্য হল হামাস আক্রান্তবিরোধী অপারেশন এবং জিম্মি মুক্তি। তারা ঘোষণা করেছে, “হামাসকে চূড়ান্ত পরাজিত করা হবে।”
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে — তাদের ‘২১ দফা পরিকল্পনা’ এই অঞ্চলে উদ্বেগ ও সম্ভাবনা সহ উভয় দিক বিবেচনা করবে।
তবে শরণার্থী সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, দ্রুত যুদ্ধবিরতি ছাড়া মানবিক বিপর্যয় আরো ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।


