জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে ভাষণ দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাঁর বক্তব্যকে “দৃঢ়, প্রাসঙ্গিক ও ঐতিহাসিক” বলে অভিহিত করে আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে সংস্কার, আগামী জাতীয় নির্বাচন, অর্থনীতি, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি ‘তিন-শূন্য বিশ্ব’— শূন্য কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব নির্মূল এবং সম্পদের সমবন্টন— এই দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।a
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
“প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ ছিল শক্তিশালী, যথাযথ ও সময়োপযোগী। এতে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি, জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের রূপরেখা উঠে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্যের যে প্রয়োজন ছিল, এই ভাষণ সেটিই প্রতিফলিত করেছে।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,
“প্রথমবারের মতো কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে রাজনৈতিক নেতারা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিয়েছেন— এটি একটি অনন্য নজির।”
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান রূপান্তর, মানবাধিকার অঙ্গীকার ও বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
ভাষণে ইউনূস বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান গাজায় সহিংসতা বন্ধ ও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। তিনি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তিনি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার সফর সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর জাতীয় ঐক্য সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বৈশ্বিক অবস্থানকে জোরদার করেছে।
বক্তব্যে ইউনূস বলেন,
“আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছি যার লক্ষ্য সুশাসন, সংস্কার ও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন। আমাদের লক্ষ্য জাতিকে পুনর্গঠন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ সুগম করা।”
তিনি নারী নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, প্রযুক্তিগত সাম্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেন।


