টাঙ্গাইলে তিতাস গ্যাস লাইনে ভয়াবহ ফাটল

দেশজুড়ে
টাঙ্গাইলে তিতাস গ্যাস লাইনে ভয়াবহ ফাটল
নিউজ ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার শিবপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসের সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ—দু’টিই বন্ধ হয়ে পড়েছে একসঙ্গে, ফলে তিনটি উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ফাটলের ফলে টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর উপজেলায় অন্তত ১৪ হাজার আবাসিক গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন না। পাশাপাশি মির্জাপুর শিল্প অঞ্চলের ৩৫টি কারখানা এবং ১৫টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

টাঙ্গাইল তিতাস গ্যাস অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী মুন্না বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“বিস্ফোরণের পর দ্রুত মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।”

এই দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক বিপত্তি—গ্যাস লাইনের ওপরেই স্থাপিত ছিল পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর ও দেলদুয়ার—এই তিন উপজেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন,

“গ্যাস লাইনের ওপরে বিদ্যুৎ খুঁটি থাকায় তা সরিয়ে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।”

একযোগে গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরোয়া রান্না, অফিস কার্যক্রম, হাসপাতালের নিরবচ্ছিন্ন সেবা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ একসঙ্গে থাকার ফলে এখন সবাইকে মূল্য দিতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারজানা আক্তার বলেন,

“সকাল থেকে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎও নেই। বাচ্চাদের নাশতা বানাতে পারিনি, অফিসের কাজও বন্ধ।”

তিতাস গ্যাস ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলীরা মেরামত কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তবে দুই সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে সন্ধ্যা বা রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।