গাজাগামী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’র ১৩০ মানবাধিকার কর্মী জর্ডানে পাঠাল ইসরায়েল

গাজাগামী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’র ১৩০ মানবাধিকার কর্মী জর্ডানে পাঠাল ইসরায়েল
নিউজ ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৫

গাজা অভিমুখী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ মিশনে অংশ নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়া ১৩০ মানবাধিকার কর্মীকে অবশেষে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জর্ডানের আলেনবি সেতু দিয়ে তাদের দেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেট্রা।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কর্মীদের মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, তিউনিসিয়া, ওমান, কুয়েত, পাকিস্তান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনা, তুরস্কসহ অন্তত ২২টি দেশের নাগরিক। সীমান্ত পারাপার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় জর্ডান সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নেওয়া অনেক মানবাধিকার কর্মী অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের হেফাজতে তাদের সঙ্গে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি সংগঠন জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদের কেউ খাঁচায় বন্দি ছিলেন, কেউ মারধরের শিকার হয়েছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্পেন, সুইডেন ও ব্রাজিলের কর্মীরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সুইডিশ প্রতিনিধিদের অভিযোগ, অভিযানে অংশ নেওয়া সুপরিচিত জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গ-কে ধাক্কা দিয়ে পতাকা ধরতে বাধ্য করা হয়। ইসরায়েলি বাহিনী এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে ৪৫০ জনের বেশি কর্মী নিয়ে গাজামুখী ৪২টি নৌকা আটকে দেয় ইসরায়েল। তাদের দাবি, ওই অভিযান নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি মানবিক সহায়তার ওপর ‘খোলামেলা হামলা’ হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।

এর আগে ইতালি ও তুরস্কে বেশ কয়েকজনকে ফেরত পাঠানো হয়। সোমবার ১৭১ জন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফেরার পর মঙ্গলবার নতুন করে এই ১৩০ জনকে জর্ডানে পাঠানো হয়।

‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা, যা গাজার অবরোধ ভেঙে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছাতে চেয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, তারা শুধুই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন।

তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফ্লোটিলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযান চালায়, যা এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর তদন্তের দাবিকে আরও জোরালো করছে।