মিয়ানমারে বৌদ্ধ উৎসবে প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২৪
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চালানো ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে দেশটির সাগাইং অঞ্চলে প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা নিক্ষেপ করে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে নির্বাসিত ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারের (NUG) এক মুখপাত্র।
স্থানীয়রা জানান, চাউং-উ এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে প্রদীপ প্রজ্বলন ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ চলছিল। ঠিক সেই সময় রাত ৮টা এবং ১১টার দিকে দুদফায় প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা ফেলা হয়।
স্থানীয় স্বাধীন গণমাধ্যম দ্য ইররাওয়াডি জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ২০ থেকে ৩২-এর মধ্যে হতে পারে। বহু মানুষ এখনো গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অ্যামনেস্টির মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক জো ফ্রিম্যান বলেন,
“বেসামরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকারের সহিংসতা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে তারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আরও বর্বরতা চালাচ্ছে।”
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করে বেসামরিক এলাকায় হামলা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি পরিচিত কৌশল, যা বিশেষ করে সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।
চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে জান্তা সরকার। তবে জাপানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতে, কোনো ধরনের শান্তিপ্রক্রিয়া ছাড়া এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কার্যকর হবে না।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ফ্রিম্যান বলেন,
“আসিয়ানকে তাদের ব্যর্থ শান্তি উদ্যোগ পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের উচিত জান্তা সরকারের ওপর কঠোর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মিয়ানমারের ইস্যু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো।”


