ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন শান্তিতে নোবেল জয়ী মাচাদোর
গাজায় চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ থাকলেও সদ্য শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো প্রকাশ্যে তেল আবিবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাচাডো বলেন,
“আমি বিশ্বাস করি, একদিন ভেনেজুয়েলা ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আমার সরকার ইসরায়েলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাবে এবং আমরা দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেব।”
শান্তিতে নোবেলজয়ীর মুখে এমন ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,
“একজন নোবেলজয়ী কীভাবে এমন সময় ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন, যখন গাজায় শিশু ও নারীদের লাশের সারি লম্বা হচ্ছে?”
২০০৯ সালে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। সে তুলনায় মাচাডোর অবস্থান একেবারেই বিপরীত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাচাদোর এমন অবস্থান পশ্চিমা রাজনীতির প্রভাব এবং মার্কিন সমর্থনের প্রতিফলন।
শুধু ইসরায়েল নয়, চলতি বছরই মাচাদো মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতিকে ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলার আদালতের রায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা হন। বর্তমানে গোপনে অবস্থান করলেও আন্তর্জাতিক মহলে তার প্রভাব বাড়ছে।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল কমিটি বলেছিল—
“যখন স্বৈরশাসকরা গণতন্ত্র দমন করে, তখন স্বাধীনতার জন্য লড়াইরতদের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।”
তবে এখন অনেকে বলছেন, মানবাধিকার রক্ষার নামে ভূরাজনীতির চেহারা ফুটে উঠেছে।


