যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রেসিডেন্ট রামাফোসা

যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রেসিডেন্ট রামাফোসা
নিউজ ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৫

গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলা থেকে পিছু হটছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মামলা চলবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান অটল থাকবে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে রামাফোসা বলেন,

“যে শান্তিচুক্তি হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান মামলার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, “আমরা মামলাটি এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি যেখানে ইসরায়েলকে আমাদের অভিযোগের উত্তর দিতে হবে। তাদের ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে আইসিজেতে পাল্টা যুক্তি জমা দিতে হবে।”

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা দায়ের করে। চলতি বছরের অক্টোবরে তারা ৫০০ পৃষ্ঠার বিশদ তথ্য-উপাত্ত জমা দেয়, যা মামলাটির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী,

  • ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি: ইসরায়েলকে তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি জমা দিতে হবে।

  • ২০২৭ সালে: মৌখিক শুনানি শুরু হতে পারে।

  • ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের শুরুতে: চূড়ান্ত রায় প্রত্যাশিত।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত তিন দফা অস্থায়ী আদেশ জারি করেছে, যেখানে ইসরায়েলকে গণহত্যামূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে,মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা না দিতে,প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েল এসব আদেশ কার্যকরভাবে মানছে না।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলেও আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার প্রতি এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলেও মত অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের।