ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালের নীতিমালার বিরুদ্ধে ‘No Kings’ নামে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মার্কিন নাগরিক। ‘গণতন্ত্র হোক রাজনীতি, রাজতন্ত্র নয়’ — এই বার্তা নিয়ে নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, মিয়ামি, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বেশ কয়েকটি শহরে একযোগে এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়।
নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে হাতে ধরেন নানা ধরনের প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড:
‘Democracy, not Monarchy’, ‘The Constitution is not optional’, এবং ‘No more executive overreach’।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রশাসন গণতন্ত্রের মূলনীতির ওপর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ জার্সির ৬৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার মাসিমো মাসকোলি বলেন,
“আমরা সরকারের ওপর আর ভরসা করতে পারছি না। জনগণ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এখন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানো।”
কয়েকটি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন থাকলেও, আয়োজকরা জানায়, আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ট্রাম্প একাধিক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ফেডারেল সংস্থা বিলুপ্ত করা, স্বাস্থ্যসেবা হ্রাস, এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আনা অন্যতম।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারাও। সিনেটের মাইনরিটি লিডার চ্যাক শুমার বলেন,
“আমেরিকা কোনো একনায়কের দেশ নয়। আমরা ট্রাম্পকে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে দেব না।”
এই আন্দোলন শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
বার্লিন, লন্ডন, রোম, মাদ্রিদসহ ইউরোপের বড় শহরগুলোতে এবং কানাডার টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে অনুরূপ প্রতিবাদ দেখা গেছে। টরন্টোর বিক্ষোভকারীরা ‘Hands off Canada’ লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের বহির্বিশ্ব নীতির প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিত বহন করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যাপক নাগরিক অংশগ্রহণ শুধু ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলন নয়, বরং গণতন্ত্র রক্ষায় সাধারণ মানুষের গভীর উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ প্রতিবাদ ভবিষ্যতের মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


