যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি বিমান হামলা

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় ফের ইসরায়েলি বিমান হামলা
নিউজ ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৫

যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যার ফলে অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার ভোরে গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের কিছু এলাকায় দু’দফা বিমান হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বলছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে হামলা চালিয়েছে, যদিও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এটিকে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, অক্টোবরের শুরুতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল ৪৭ বার আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে ৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলায় ঘরবাড়ি, স্কুল, এবং চিকিৎসাকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কায়রো চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত— রাফাহ সীমান্ত খোলা— তা মানেননি।

হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়:

“রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় রোগী, বয়স্ক এবং সাধারণ মানুষ আটকে পড়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা আহতদের উদ্ধারে যে আন্তর্জাতিক দল আসার কথা ছিল, তারাও প্রবেশ করতে পারছে না।”

এর আগে মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কায়রোর ফিলিস্তিনি দূতাবাস জানিয়েছিল, সীমান্ত সোমবার খুলে দেওয়া হবে— যদিও ইসরায়েল সেটি বাস্তবায়ন করেনি।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণেই রাফাহ সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তা খোলা হবে না।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু মানবিক সংকটকেই আরও জটিল করে তুলবে না, বরং চলমান যুদ্ধবিরতির ভিত্তিও নড়বড়ে করে তুলবে।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,

“মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে না পারলে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর না থাকলে সহসা গাজায় সহিংসতা থামবে না।”

মানবাধিকার সংস্থাগুলো রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, গাজার ২২ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখন প্রতিটি ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ।