বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সুপারফুড অ্যাভোকাডো, বাংলাদেশেও সাফল্যের মুখে ঝিকরগাছার কৃষক
বিশ্বজুড়ে ‘সুপারফুড’ নামে খ্যাত অ্যাভোকাডো এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রেও। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল শুধু বিদেশে নয়, এখন দেশের মাটিতেও চাষের সাফল্য দেখাচ্ছে। আর এই সাফল্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ গড়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের কৃষক মো. ছাইফুল ইসলাম।
২০২২ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র ৫১ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাভোকাডো চাষ শুরু করেন তিনি। বিদেশি জাতের চারা রোপণের পর তিন বছর পর, চলতি বছরের মার্চ মাসে গাছে ফুল আসে এবং আগস্টে ফল ধরতে শুরু করে। প্রথম মৌসুমেই তিনি প্রায় আট হাজার টাকার অ্যাভোকাডো বিক্রি করেছেন, যেখানে প্রাথমিক খরচ ছিল তিন লাখ টাকার মতো।
চাষি ছাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে অনেকেই বিশ্বাস করতেন না এই ফল বাংলাদেশের মাটিতে হবে। কিন্তু এখন আমার বাগানে ফল দেখে আশেপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হচ্ছেন। এই ফলের বাজারমূল্যও অনেক ভালো, আমি পরের বছর আরও বড় পরিসরে চাষ করব।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাভোকাডো কেবল একটি ফল নয় এটি একটি পুষ্টি ভান্ডার। এতে রয়েছে হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভালো চর্বি (মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট), চোখের দৃষ্টি রক্ষাকারী লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন, এবং ত্বক ও চুলের জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ই ও সি। এছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিয়মিত অ্যাভোকাডো খেলে দেহে খারাপ কোলেস্টেরল কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের তালিকায় অ্যাভোকাডোর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে এটি বাংলাদেশের কৃষিতে উচ্চমূল্যের সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এখন পর্যন্ত সাত বিঘা জমিতে অ্যাভোকাডো চাষ হচ্ছে। আমাদের কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শার্শা ও ঝিকরগাছা অঞ্চলে অ্যাভোকাডো চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে।


