মমেক হাসপাতালে পদে পদে ভোগান্তি

দেশজুড়ে
মমেক হাসপাতালে পদে পদে ভোগান্তি
নিউজ ডেস্ক
২ নভেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। শয্যা সংকট, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশে প্রতিদিনই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

রোববার (২ নভেম্বর) হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে—বারান্দা, সিঁড়ি ও করিডোরজুড়ে শুয়ে আছেন অসংখ্য রোগী। ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ, টয়লেটগুলো নোংরা, আর পানির সংকট যেন নিয়মিত চিত্র। আউটডোরে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন ধরে টিকিট নিতে হয় রোগীদের। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও চিকিৎসকের দেখা মেলে না।

তারাকান্দা থেকে আসা শেফালি খাতুন বলেন, “বেড না পেয়ে বারান্দায় মেঝেতে শুয়ে আছি। গন্ধে থাকা যাচ্ছে না, কিন্তু অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আরেক রোগীর স্বজন সাজ্জাত হোসেন অভিযোগ করেন, “চিকিৎসা নিতে এলেই দালালদের ঝামেলা। টাকা না দিলে পরীক্ষা বা ওষুধে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মমেক বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। শূন্যপদ ও অবকাঠামোগত সংকটে রোগীসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সুজন ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, “ময়মনসিংহসহ আশপাশের কয়েক জেলার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেবার মান দিন দিন কমছে। দালালচক্র দমন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন খান বলেন, “অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে শয্যা সংকট অনেকটাই কমে আসবে।”

তিনি আরও জানান, “যেসব কর্মচারী সেবার বিনিময়ে টাকা নেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নজরদারি চলছে।”

উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, “দালালদের চিহ্নিত করে হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”