ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

দেশজুড়ে
ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
নিউজ ডেস্ক
৩ নভেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবারও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলন ও জেল-জুলুম পার হওয়ার পর তিনি আবারও নিজের এলাকা থেকে নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ করলেন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল নিজেই। এই তালিকায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের বিজয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা তুঙ্গে। স্থানীয়রা বলছেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসন সবসময়ই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস বলেন, “মহাসচিবের মনোনয়ন শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ইতিহাস। আমরা ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে মাঠে নামব এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব।”

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. জাহিদ বলেন, “মহাসচিব আমাদের আশা ও সাহসের প্রতীক। তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিসও জানান, “মহাসচিবকে বিজয়ী করার জন্য আমরা মাঠে প্রতিটি শক্তি দিয়ে কাজ করব। এটি মহিলাদের জন্য নতুন উদ্দীপনার দিন।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা জীবনের পর ১৯৬৩ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।