মামদানিকে সপরিবারে হত্যার হুমকি
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন জোহরান মামদানি। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি শহরের প্রথম মুসলিম ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হয়েছেন। এই সাফল্য এসেছে কঠোর প্রতিকূলতা ও ভয়ঙ্কর হুমকির মধ্য দিয়ে।
নিউইয়র্ক সিটির ৯১ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, মামদানি পেয়েছেন ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৫১ ভোট, যা ১৯৬৫ সালের পর কোনো মেয়র প্রার্থীর সর্বোচ্চ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমো পেয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ভোট, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস সিলওয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৩৭ ভোট। অর্থাৎ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মামদানি।
বিজয়ের আনন্দের সঙ্গে জড়িত ছিল ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানিকে এবং তার পরিবারের প্রতি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
কুইন্স জেলা অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বর টেক্সাসের এক ব্যক্তি মামদানিকে ভয় দেখিয়ে একাধিক ভয়েসমেল ও লিখিত বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল,
“কেউ মাথায় গুলি করার আগেই উগান্ডায় ফিরে যাও।”
এই ঘটনায় ওই ব্যক্তি ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।
মামদানির এই জয় শুধুই ভোটের জয় নয়, এটি নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। একজন মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী হিসেবে এত বড় সংখ্যক ভোট পাওয়ায় শহরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মামদানি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় এবং প্রচারণার প্রতিটি মুহূর্তে তার পরিবারকে সুরক্ষা দিতে হয়েছে। তার বিজয় প্রমাণ করে যে জনগণ ধন-সম্পদ নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নেতৃত্বের মূল্যায়ন করে।
নিউইয়র্কের এই নির্বাচন প্রমাণ করল, ইতিহাস শুধু ভ্রমণবৃত্তি নয়; বরং এটি সাহস, সংকল্প ও মানুষের আস্থা অর্জনের গল্প। জোহরান মামদানির জয় কেবল শহরের নয়, পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


