মতলব সেতুর জয়েন্টে বড় ফাটল, হাজারো মানুষের চলাচলে চরম ঝুঁকি

দেশজুড়ে
মতলব সেতুর জয়েন্টে বড় ফাটল, হাজারো মানুষের চলাচলে চরম ঝুঁকি
নিউজ ডেস্ক
২ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার সংযোগস্থল মেঘনা–ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ মতলব সেতুতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগজনক ত্রুটি। সেতুর মাঝের এক্সপানশন জয়েন্টে বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও যানবাহন।

স্থানীয়রা জানান, ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর থেকেই সেতুর মাঝ বরাবর ফাটলটি স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। এছাড়া সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় নিচের মাটি সরে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কংক্রিট উঠে রড বেরিয়ে এসেছে, যা সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কাঁপে এবং মাঝের জয়েন্টে বড় ফাঁকা স্পষ্ট দেখা যায়। অ্যাপ্রোচ সড়কের গর্ত যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০১৫–১৬ অর্থবছরে প্রায় ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ২০১৮ সালের জুনে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রতিদিন চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও কুমিল্লার হাজারো মানুষ ঢাকামুখী ও আন্তঃজেলার যোগাযোগে এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, “ভূমিকম্পের আগে এমন ফাটল দেখা যায়নি। সেতুটি পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দা গোলাম নবী খোকন বলেন, “এই সেতু বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই। জরুরি সেবা থেকেও শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।”

মতলব দক্ষিণের কলেজ শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, “সেতু দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে ভয় লাগে। কিন্তু ভিন্ন পথ না থাকায় আমরা বাধ্য।”

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, “এটি ফাটল নয়; তাপমাত্রাজনিত কারণে জয়েন্টের স্বাভাবিক ফাঁক। দ্রুতই সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, সংযোগ সড়কের গর্ত মেরামতের কাজ চলছে।

অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহ. আলিউল হোসেন বলেন, “জয়েন্টে ফাটল বা সংযোগ সড়কের ভাঙন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। তবে ঘটনাস্থলে কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হলে সেতুটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা কয়েক জেলার মানুষের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি সৃষ্টি করবে।