শ্রীলঙ্কায় বন্যা–ভূমিধসে ৪১০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩৩৬
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার আঘাত হানার পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেশে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৩৬ জন মানুষের কোনো খোঁজ মিলছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি জেলা ক্যান্ডি এই দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যান্ডির আলওয়াতুগোদা এলাকায় বিশাল ভূমিধসে কমপক্ষে ৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেখানে ২০০–এর বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। পাহাড় ধসে বসতি বিলীন হয়ে যাওয়ায় রাতারাতি বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
প্রাণহানি বেশি হওয়ায় এলাকা জুড়ে চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে ১৭৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়জনিত টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশজুড়ে অন্তত ১২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। ধসে যাওয়া এলাকা থেকে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে বুলডোজার, এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্যা ও ভূমিধসের কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ঝড়ে ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে যাওয়ার কথা জানিয়ে অনেক মানুষ বলেছেন, প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসে রাতারাতি পুরো বসতি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পাহাড়ে ফাটল ধরে একের পর এক জায়গা ধসে পড়ছে; বহু পরিবার এখনও আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।


